সেরা ব্র্যান্ডগুলোর কন্টেন্ট মার্কেটিং কৌশল

হয়ত অবাক করা কন্টেন্ট মার্কেটিং প্রচেষ্টার সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর নিখিল সৃষ্টি পরিবর্তন হচ্ছে, এবং ওই ব্র্যান্ডগুলো পরিবর্তনে সক্রিয় ভুমিকা রাখছে। উদ্ভাবন, শক্তি এবং অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে তাদের কথাই উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু তাদের প্রতি কেন নজর রাখবেন? যেন শিখতে পারেন এবং অনুকরণ করতে পারেন। আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে। আইবিএম এর মতো এতো কাস্টমার না-ও থাকতে পারে, কিন্তু তাদের আইডিয়াকে আপনার ব্যবসায়ে না খাটানোর কোন যুক্তি নেই।

যেহেতু আদর্শ কন্টেন্ট মার্কেটিং এর লিস্ট আপনি পড়ছেন, এক বা একাধিক আইডিয়া বাছাই করে নিজের ব্যবসায়ে অনুশীলন করুন।

১. আইবিএম- টেকনিক্যাল এবং কর্তৃত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

প্রযুক্তি মাঠে আইবিএম এতো জনপ্রিয় ও সম্মানিয় কেন? অনেকগুলো হেতুর মধ্যে একটি হলো দীর্ঘ-সমৃদ্ধ ইতিহাস। কিন্তু অন্য আরেকটি হেতু হলো- শক্তিশালি কন্টেন্ট মার্কেটিং কৌশল।

১৩০ বছরের পুরনো কোম্পানির সুনাম তুলে ধরার জন্য অফিসিয়াল কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়। কারন হলো এটি একটি টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান এবং এটা নিশ্চিত করতে হয় যে কন্টেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়। মিলিয়ন সংখ্যক মানুষের বিশ্বস্ত বিধায় কন্টেন্টগুলো সুনিপূন ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের হতে হয়।

আইবিএম সবার সম্মুখে অবস্থান নেয়। বড় একটি কোম্পানি এবং অসদৃশ অনেকগুলো ব্লগ রয়েছে। একটি নমুনা দেয়া হলো:

আইবিএম বৈচিত্রময় ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করে। তাদের কন্টেন্টগুলো সেই বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলোকেই প্রতিফলিত করে।

আপনি কিভাবে কাজে লাগাবেন:

বৃহত্তম ব্র্যান্ডগুলোর সাথে টক্কর দেয়ার এবং কন্টেন্ট ক্যাম্পেইন চালানোর ইচ্ছা থাকলে, আইবিএম এর প্লেবুক থেকে একটি পেজ নিন। বিশ্বস্ত লেখাই হলো মানসম্মত কন্টেন্ট। এক্সপার্ট কন্ঠ থাকতে হবে। দেখা যাবে টেকনিক্যালি মাস্টারফূল পথে কাজ করছে।

২. মাইক্রোসফ্ট- গল্পের শক্তি

মানবজাতি গল্পের মধ্যে আবদ্ধ; গল্প শুনে, গল্প ভালোবাসে এবং গল্প বলে

হার্ভার্ড বিজন্যাস রিভিউ এর একটি বিশ্লেষনে বের হয় যে, গল্প বলা শরীরে নিওরোকেমিক্যাল অক্সিটোসিন উৎপাদেনে প্রণোদিত করে। অক্সিটোসিন হলো “ভালো অনুভব করা” হরমোন; অন্যের প্রতি বিশ্বাস বা উদারতা প্রকাশকালেও এই হরমোন উৎপাদিত হয়। যদি আপনার কন্টেন্ট অক্সিটোসিন উৎপাদনে প্রণোদনা দিয়ে থাকে, জেনে রাখুন যে আপনি কিছু একটা ভালো করেছেন। এটাই সত্য যা মাইক্রোসফ্ট করেছে। এবং এজন্যই মাইক্রোষফ্ট এর কন্টেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়।

মাইক্রোসফ্ট হরমোন সম্পর্কিত নয়। সর্বোপরি, তারা সফ্টওয়ার প্রস্তুত করে। আবেগ অথবা ভালো লাগার ঢেউ উঠাবার মতো বিষয় মাইক্রোষফ্ট নয়। কিন্তু মাইক্রোসফ্ট বলে, এটা করা সম্ভব এবং ব্লগ স্টোরিগুলো তা-ই প্রমাণ করে।

গল্পগুলো অবশ্যই মাবনজাতি সম্পর্কিত। ড্যানিয়েল জেরেমিয়ার প্রবন্ধতে সফ্টওয়্যার শব্দটি ব্যবহারই করেন নাই। এটি একটি মানব অভিজ্ঞতার গল্প- বিজয়, চ্যালেঞ্জ, মুক্তি এবং সম্ভবত অক্সিটোসিনও।

বিলিয়ান্ট একটি কন্টেন্ট যাতে রয়েছে, অপরকে সহযোগিতা করার গল্প।

বিশ্বের বৃহত্তম সফ্টওয়্যার প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান কেন মানুষ সম্পর্কে গল্প লিখতে যাবে? কতোগুলো ভালো ব্যাখ্যা অনুমান করা যায়। সবগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা: গল্প মানুষকে সম্পৃক্ত করতে বাধ্য করে।

আপনি কিভাবে কাজে লাগাবেন:

গল্প বলুন, এবং মানুষ সম্পর্কে কন্টেন্ট তেরি করুন। মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের সাথে কথা বলুন। নভেম্বর প্রবন্ধে কেভিন লুন্ড এবং এইলিন সুটন বর্ণনা করেন যে, মানুষের সাথে কথা বলার তিনটি পদক্ষেপ:

ক. গল্পের অন্তর্ভুক্ত হোন

খ. বিনয়ী হোন

গ. প্রাসঙ্গিক হোন

৩. ম্যাকডোনাল্ডস- কন্টেন্ট মারফত কাস্টমার সার্ভিস

ম্যাকডোনাল্ডস এর অনেক বিদ্বেষী রয়েছে। কিন্তু, কন্টেন্ট জিনিয়াসদের কল্যাণে পিছু হটে নি। ম্যাকডোনাল্ডস এর কন্টেন্ট কৌশল হিসেবে নেয়া হয়েছে জে বেয়ার এর “কনভিন্স এন্ড কনভার্ট” কৌশলকে। বলা হয়ে থাকে, ম্যাকডোনাল্ডস এর কৌশল হলো কন্টেন্ট মার্কেটিং এর সর্বোত্তম কৌশল। তাদের কর্মপদ্ধতি হতে পারে, অন্য প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক প্ররিবর্তন।

দেখে নিন তিনি কি সম্পর্কে বলছেন-

কানাডা ম্যাকডোনাল্ডস কাস্টমারদের খাবার সম্পর্কে প্রশ্ন সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। ক্যাম্পেইনটি অনেকগুলো প্রশ্ন সংগ্রহে সফল হয়।

ম্যাকডোনাল্ডস কেন প্রতিদিন ৪৫০ টি প্রশ্নে জবাব দেয়ার দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে এবং সমুদয় ১০০০০ প্রশ্নের জবাব দেয়?

এটাই হলো কাস্টমার সার্ভিস। তারা চায় যেন খাবার সম্পর্কিত ভালো কিংবা মন্দ সকল প্রশ্নের জবাব দিতে। তারা চায় মানুষ যেন তাদের সাথে যুক্ত হয় এবং তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।

ম্যাকডোনাল্ডস এর সিএমও একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি বলার মতো কোন ভালো গল্প থাকে, বলে ফেল। কিন্তু অবশ্যই বিশুদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে এবং কাস্টমারদের সাথে কথোপকথন চালু রাখতে হবে। আপনি শুধু তথ্য প্রচারেই থেমে যাবেন না। তাদেরকে যুক্ত করতে হবে যেন তারা জানতে আসে, বিশ্বাস করে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বস্ততা গড়ে ওঠে।

পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বের সেরা সেরা কন্টেন্ট মার্কেটিং প্রচেষ্টাগুলো দেখতে, শিখতে ও অনুসরন করতে পারেন। যা যা শিখা যাবে:

  • টেকনিক্যাল এবং পান্ডিত্যপূর্ণ জ্ঞান রাখবে পারবেন
  • কন্টেন্ট দিয়ে জনসাধারনে আবেদন রাখতে পারবেন
  • সামাজিক মাধ্যমে ক্রেজি শেয়ার পেতে পারেন

বিভিন্ন গবেষনায় কন্টেন্ট মার্কেটিং সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদেরে থেকে কিছু এখানে তুলে ধরা হলো:

ক. গল্প বলুন এবং মানবীয় হোন

খ. একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে বলুন

গ. পর্যাপ্ত পরিমানে লিখুন

ঘ. চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলুন

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়তা দেন যে, যদি শুরু করা যায় তবে মার্কেটিং এর ফলাফল পরিবর্তন হয়ে যাবে।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply