কিছু শব্দ বিক্রয়কর্মে ব্যবহার করা উচিত নয়

শুধু “না” বলায় বিভিন্ন ধরনের মতভেদ দেখা দিতে পারে। এবং যদি কারও মতের সাথে না মিলে, নিশ্চয়ই বিক্রয় বন্ধ করে দিবেন না।

সহমত প্রকাশ করা বিক্রয় কাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিক্রান্ত নিয়ম। তার মানে এই না যে, কাস্টমারকে বিপথে চালনা করা। বুঝিয়ে বলার বিভিন্ন কলাকৌশল রয়েছে। “আমি পারবো না”, “আমি করবো না” অথবা “এটা আমার কাজ নয়” বলার চেয়ে “এটি হতে আপনাকে সহায়তা করবো” বলাটাই শ্রেয়।

এরকম আরও কতগুলো বিষয় আছে যা বিক্রয়কাজে বলা ঠিক হবে না।

১. এটি আমার ডিপার্টমেন্ট নয়                                       

ব্যক্তিগত জীবন হোক বা বিপননকর্মই হোক, সবকিছুর জন্য দায়িত্ব নিজের কাধে নিতে হবে। অন্যকে দোষ দেয়া যাবে না, অর্থনৈতিক অবস্থাকে দোষ দেয়া যাবে না এবং বহি:অবস্থাকে দোষ দেয়া যাবে না। কারন, অন্যকে দোষ দেয়া মানে হলো অন্যের গোলাম হয়ে যাওয়া।

প্রতিভাসম্পন্ন বিক্রয়কর্মীরা অনেক পূর্বেই ব্লেইম গেইম ছেড়ে দিয়েছেন। তারা এতই বড়মাপের যে, কাজ সম্পাদনের জন্য সকল দায়ভার নিজে নিয়ে নেন। যদি সফলতার কৃতিত্ব আপনি নিতে চান, তবে ব্যর্থতার দায়ভারও কাধে নিয়ে নিন।

২. আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন ক্রেতা কখন আপনার কথাকে পাশ কাটিয়ে যায়? কারন, সম্ভাব্য ক্রেতা মনে করে আপনি বিশ্বাযোগ্য নন। নানা মাধ্যমে বিক্রয়কর্মীদের ব্যপারে বিভ্রান্তিমূলক গুজব ছড়িয়ে থাকে যা ক্রেতার সন্দেহ সৃষ্টি করে। বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব অতিরিক্ত সময় যোগ করবে এবং বিক্রয় কমে যাবে।

“বিশ্বাস করুন” বলে সম্ভাব্য ক্রেতার অভয় লাভ করা যাবে না বরং তার উল্টা প্রভাব পরার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদেরকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, জনসাধারণ যা দেখে তা-ই বিশ্বাস করে, যা শুনে তা খুব কম।

৩. এটি কোম্পানি পলিসি

এই কথাটি কেউ কখনই শুনতে চায় না। গোল্ডেন রুলটি অনুশীলন করার এটিই যথাযথ সুযোগ, কারন আপনি জানেন যে, কথাটি আপনি নিজেও শুনতে চান না। কেউই কোম্পানির পলিসিকে তোওয়াক্কা করে না। ক্রেতা বিচার করে কেমন সেবা তারা পেয়েছে। ক্রেতার স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কোম্পানি পলিসি সাংঘর্ষিক হলে, হয় একে ভেঙ্গে দিতে হবে অথবা একটি সমাধানে যেতে হবে।

৪. আমরা প্রতিযোগি

“প্রতিযোগিতা স্বাস্থ্যসম্মত” ভোক্তার ক্ষেত্রে কাজে লাগে, কিন্তু বিক্রয়কর্মীর জন্য নয়। প্রতিযোগিতা করবেন না, আধিপত্য স্থাপন করুন। মোবাইলে হাত দেয়ার সময় স্টিভ জবসকে তার সহযোগিরা বলেছিলেন যে, আইপড নিয়ে কাজ করছ, সেটা নিয়েই থাক। মোবাইল ফোনের দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দাও। অদ্যাবদি আইফোন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্টফোন। এটিই হলো কর্তৃত্ব স্থাপন কৌশল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। আপনার পন্য বা সেবা সবার দৃষ্টিগোচর করাতে লিংকডইন, টুইটার, ফেসবুক, গুগল প্লাস ব্যবহার করুন।

৫. সত্যি

“অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি” কিন্তু “অনেস্টি ইজ দ্য ড্যাঞ্জারাস ওয়ার্ড ফর সেলসপিওপল টু ইউজ”। এমনকি এর চেয়েও খারাপ, হলো লেট মি বি অনেস্ট উইথ ইউ নাউ। তার মানে, আগে আপনি সৎ ছিলেন না। সততা শব্দটি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য হতে গেলে, ক্রেতা লাল পতাকা ঝুলিয়ে দিবে। “ট্রাস্ট মি”-ও ঠিক এমনই একট শব্দ।

পরিশেষে, এই শব্দগুলি ব্যবহার করলে এমন হবে না যে, আপনি বিক্রি করতে পারবেন না। বিক্রয়কাজে প্রকৃত বিষয়টি হলোঃ ব্যবহৃত শব্দগুলো হয় গোলমাল করবে অথবা প্রাসঙ্গিক বার্তা বহন করবে। প্রাসঙ্গিক শব্দ বিরক্ত করে না, অপমান করে না বা বিপথে নেয় না। গোলমাল পাকায় এমন শব্দের ব্যবহার কমিয়ে আনলে বার্তা আরও বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট হয় এবং বিক্রয় বৃদ্ধিতে শক্তিশালি ভুমিকা রাখে।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply