চাকরি করবেন, নাকি ব্যবসায়?

চাকরি শিকারে নেমেছেন; মেধা, জ্ঞান, আগ্রহ কাজে লাগানোর মতো উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছেন না? একটি প্রশ্ন করতে দিন: ব্যবসায় শুরু করার কোন প্ল্যান করেছেন?

একটু সতর্কতা দেয়া যায়, চাকরিজীবী থেকে উদ্যোক্তায় লাফ দেয়া মানে শুধুই লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে না মাইন্ডসেটও পরিবর্তন করতে হবে। সময়, অর্থ এবং এ্যানার্জি ব্যয় করার আগে, নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত: ব্যবসায় করতে যা দরকার আমার তা আছে কিনা? নাকি চাকরিজীবী হওয়াটাই মানায়?

ছয়টি প্রশ্ন, যা নির্ধারন করে দিবে ব্যবসায় মালিক হওয়ার মাইন্ডসেট আছে কিনা।

১. কোনো কাজ শুরু করে স্বাধীনভাবে শেষ করতে পারেন?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: বস/ম্যানেজার নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার জন্য কোন দায়িত্ব দিবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: বিজন্যাস মালিকগণ জানেন- এমনকি পছন্দও করেন নিজে নিজে কাজ করতে হয় কিভাবে। সৃষ্টি এবং পরিপূর্ণ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাধে নিতে চায়। যদি চিন্তা করেন হোম-বেইজড বিজন্যাস এর কথা, অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে- কারও সঙ্গ বিনা বিস্তর সময় ধরে একা কাজ করতে হবে এবং অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে।

২. স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন কি?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: চাকরিজীবী হিসেবে, কাজ করবেন অন্যের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: পরিকল্পনা, বিপণন এবং তদারকি করার সকল দায় হৃদয়ঙ্গম করেন। সফল বিজন্যাস পরিচালনা মানে উপযুক্ত বিজন্যাস প্ল্যান ফরমুলেট এবং ইমপ্লিমেন্ট করার সময় বের করা। দরকার পরবে সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ মিশন স্টেটমেন্ট, কোম্পানির জন্য উদ্ভাবনী ভিশন, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক গোল এবং সম্পাদনসাধ্য ও ফলপ্রসু কর্মপরিকল্পনার।

৩. নিজের উন্নতি করায় সেল্ফ মোটিভেশন আছে?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: বস/ম্যানেজার আপনার কর্ম ও কর্মঘন্টা সেট করে দিবে এবং বস-ই তারণাসহ তদারকি করবে।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: সফল উদ্যোক্তাগণ সময় ব্যবস্থাপনা ও মাল্টি-টাস্কিং এর গুরু। সফল বিজন্যাস ক্রমবর্ধন স্বার্থে সেল্ফ-ডিসিপ্লিন অত্যাবশ্যকিয় উপাদান। অগ্রগতি দানকারী বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য বিরতিহীনভাবে সেল্ফ-ডিরেকটেড ও সেল্ফ-মোটিভেটেড থাকতে হবে। সেল্ফ-ডিসিপ্লিন এর সংগা দিতে গেলে বলতে হবে- যখন যা করবেন বলেছেন তখনই করে ফেলবেন।

৪. বিজ্ঞতার সাথে অর্থ ব্যবস্থাপনা পারেন কি?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: সফল ও ফলপ্রসু বিজন্যাস পরিচালনায় অন্য কারও উপর অর্থনৈতিক ঝুকি বর্তায় এবং নিজে ঝুকি থেকে বিরত থাকে।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: অর্থায়নে কিভাবে মনস্থির করেন, যদি স্টার্ট আপের সিদ্ধান্ত নেন? ব্যবসায় খোলা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় স্টার্ট আপের প্রধান প্রভাবশালী চাবি হলো আর্থিক উত্থান পতনের জন্য প্রস্তুত থাকা। বিজন্যাস ক্লাসে জয়েন করতে, অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন দক্ষতা অর্জন করতে এবং পেশাদার উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে চান।

৫. জানেন, সফলতা কিভাবে পরিমাপ করতে হয়?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: সফলতার মানদন্ড নির্ধারিত হয় বস দ্বারা। সেই মানদন্ডের ভিত্তিতে আপনার সফলতা বিচার করেন এবং কার্যসিদ্ধির জন্য পুরস্কৃত করেন- পরিবার উন্নয়নে সহযোগিতা করেন এবং স্বীকৃতি দেন।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: সফল মালিক প্রকৃতিগতভাবে জানেন, কিভাবে আভ্যন্তরিণ ও বাহ্যিক সফলতার ব্যারোমিটার সেট করতে হয়। স্ট্যান্ডার্ড অব এ্যাক্সিলেন্স সেট করা, উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার দায়িত্ব। এমনকি ব্যবসায় শুরু করার আগেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে- কিভাবে পরিমাপ করবেন আপনার পেশাদারী সফলতার ব্যারোমিটার।

৬. নিজস্ব পে-চেক এর আশা রাখেন কিনা?

চাকরিজীবী মাইন্ডসেট: পে-চেক, বেনিফিট এবং চাকরি সম্পর্কিত খরচের দায়ভার চাকরিদাতার। আপনি পরিকল্পনা করবেন, সুবিধাগুলো নিয়মিত নিশ্চিত করার।

বিজন্যাস মাইন্ডসেট: উদ্যোক্তাগন পরিকল্পনা করেন, নিজস্ব পে-চেক, অবসর প্ল্যান, ট্যাক্স, বীমা এবং অবকাশ খরচ নির্ধারন করার। এমনও হতে পারে, নিয়মিত পে-চেক থাকবে না। নিজের বস হতে গেলে, জীবন-যাপন ও আর্থিক ঝুকি নিজেকেই নিতে হবে এবং অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে। ব্যক্তিগত, আর্থিক ও পেশাদারী ঝুকি নিতে প্রস্তুত আছেন?

এবার ভাবুন আপনার মাইন্ডসেট কোন ক্যাটাগরিতে পরে। প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন- চাকরি শিকারে বের হবেন নাকি স্টার্ট আপে হাত দিবেন।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply