উদ্ভাবন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের গতি নেই

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাশন ট্রেন্ড পরিবর্তন হচ্ছে খুব দ্রুত। এই পরিবর্তনের ফলে, প্রান্তিক ভোক্তার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়াও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। তাও আবার সীমিত ব্যয়ে। সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত বাজারজাতকরণ পোশাক শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিস্তর প্রসারের বৈচিত্র্যময় পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো এক যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে ।

উদ্ভাবনি আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দানে রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আরএন্ডডি) হলো কর্ণারস্টোন বা ভিত্তিপ্রস্তর। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ফেব্রিক, প্যাটার্ন, স্টাইল, স্টিচিং এবং প্রিন্টিং বিষয়ে অবিরত নতুন ডেভেলপমেন্ট, উদ্ভাবন ‍এবং ক্রমোন্নয়ন আমাদের শিল্পে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকগন আরএন্ডডিকে এখন পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আমাদের ফ্যাক্টরি মালিকগণ শুধুমাত্র প্রতিযোগিতায়ই এগিয়ে থাকছেন না বরং সর্বাগ্রে অবস্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছেন। তাদের ফ্যসিলিটিতে যুক্ত করছেন আলাদা বিভাগ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক পরিসরে বিনিয়োগ করছেন।

বিভাগটি পণ্যে মান যুক্ত করে, ভিন্নতা নিয়ে আসে এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করণে কাজ করে থাকে। ব্যবসায়ে টিকে থাকতে অবিরত উন্নয়ন অত্যবশ্যকীয়।

বিশ্বের যে কোন প্রান্তে আধুনিক উন্নয়ন ঘটে থাকে, তা প্রযুক্তির কল্যাণে হয় এবং সর্বসম্প্রদায় আইসিটিকে ধন্যবাদ দেয়। আজকে যে পণ্যের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর তার গ্রহনযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে। সুতরাং যদি প্রতিনিয়ত সৃজনশীল প্রক্রিয়া অব্যাহত না রাখি, ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাড়াবে। উদ্ভাবনের মাধ্যমে পণ্যে নতুনত্ব ও স্বাতন্ত্র্য ব্যবসায়ে সুবিধা বয়ে আনবে। আরএন্ডডি বিভাগ ফেব্রিক্স, ডিজাইন, প্রিন্ট, ওয়াশিং, এমব্রয়ডারি এবং গার্মেন্ট স্টাইলিং এর উপর গবেষণা করে। কার্যকারিতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপরও কাজ করে থাকে। ফ্যাক্টরিগুলো তার উপকারিতাও ভোগ করছে। প্রোডাক্টে বিচিত্রতা আসছে এবং ক্রেতারা তা পছন্দও করছে। আমাদের ডিজাইন করা পোশাক সন্তোষজনক মূল্যে কিনে নিচ্ছে। ওকো-টেক্স গ্রুপের আরএন্ডডি ডিপার্টমেন্ট তাদের ট্যালেন্ট ও সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে। তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও সৃজনশীল। এ্যাপারেল স্টোরির এক প্রবন্ধে খুজে পাই যে, তাদের ডিজাইন করা শতকরা ৮০ শতাংশই বিক্রয় ক্ষমতা লাভ করে। পোশাক শিল্প আনন্দিত এই কারণে যে, বাংলাদেশের ফ্যাক্টরিগুলো নিজের ডেভেলপ করা ডিজাইনসহ পণ্য রপ্তানি করছে। আত্নতৃপ্তি ও গর্বের সহিত আমরা বলতে পারি, ‍আপনি যদি নিজে ডেভেলপ করা প্রোডাক্ট বায়ারকে অফার করতে পারেন তাহলে বিনিময়ে ভালো মূল্য দাবি করতে পারেন। অভিজ্ঞরা উপদেশ দেন হাই-এন্ড প্রোডাক্ট প্রস্তত করতে, পণ্যে ভিন্নতা যু্ক্ত করতে এবং ডিজাইনে রুচিশীলতা নিয়ে আসতে। যদিও বাংলাদেশের এ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চে ভালো করছে। বিকেএমইএ নিট পণ্যের উন্নয়ন ও নতুনত্ব নিয়ে আসতে নিয়মিত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কেটে শক্ত অবস্থানে সফল হচ্ছে। বাংলাদেশের নিট ম্যানুফ্যাকচারারগন বিশ্বের প্রথম সারির রিটেইলারদের সাথে ব্যবসা সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

তাছাড়াও গার্মেন্টও ও ওভেন সেক্টরেও উন্নতি সাধন হচ্ছে বিশেষ করে ডেনিম শিল্পে।

তবে, আমাদের আরএন্ডডির কাজটা করে যাচ্ছে বেশিরভাগই দেশের বাইরের এক্সপার্টরা। দেশের ভিতরের এক্সপার্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে।  বুয়েট, বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা আরএন্ডডির কাজে যুক্ত হচ্ছে এবং ফ্যাক্টরিতে সেল গঠন করছে। তারা ইতিমধ্যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। উপযুক্ত ট্রেইনিং ও গাইডলাইন পেলে আমাদের আরএমজি শিল্পকে তারা আরও বেগবান করতে পারবে। পার্শবর্তী দেশ ভারত আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিও আরএন্ডডির উপর খুব গুরত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।  প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে আরএন্ডডিতে বিদেশিদের উপর নির্ভশীলতা কমিয়ে নিজেদের পায়ে দাড়াতে হবে।

কালেক্টেড ফ্রম: ফাইবার টু ফ্যাশন, টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন, বিকেএমইএ, এ্যাপারেল ম্যাগাজিন

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply