ত্রিশ বছর বয়সে কিভাবে মিলিয়নিয়ার হওয়া যায়

ধনী হওয়া এবং মিলিয়নিয়ার হওয়া নিয়ে আলোচনা করাটা একপ্রকারের নিষিদ্ধ প্রবন্ধের মধ্যে পরে। ত্রিশ বছরে হওয়ার কথা বলাটা আরও আজগুবি মনে হবে। আসলে এটাকে নিষিদ্ধ বলা উচিত হবে না, ইহাই সম্ভব। অনেকেই ২১/২২ বছর বয়সে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়ে ৩০ বছর বয়সে মিলিয়নিয়ার হয়ে গেছেন। এখানে কিছু পদক্ষেপ আছে যা মিলিয়নিয়ার হতে নিশ্চিত করবে।

১. অর্থ অনুসরন করুন: প্রথম কাজই হলো উপার্জন বাড়ানো। আমার উপার্জন ছিলো প্রতি মাসে $৩০০০ এবং নয় বছর পর তা $২০,০০০ এ দাড়িয়েছে। তাই বলি, অর্থ অনুসরন করুন, আর সে ই আপনাকে বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দিবে।

নোট: এখানে “আমি/আমার” বলতে মূল লেখককে বোঝানো হয়েছে। লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে এখানে লিখেছি।

২. সদম্ভে না দেখিয়ে, দৃষ্টিগোচর করুন: আমার ব্যবসায় যতক্ষন পর্যন্ত নিরাপদ উপার্জনের ব্যবস্থা না করেছে, তার আগে আমি উচ্চাভিলাসি ঘড়ি বা গাড়ী ক্রয় করি নি। আমি এখন কেবল মিলিয়নিয়ার তাই এখনও টয়োটাতেই আছি।

৩. বিনিযোগের জন্য সঞ্চয় করুন, সঞ্চয়ের জন্য সঞ্চয় নয়: সঞ্চয়ী হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে অন্য কোন খাতে আবার বিনিয়োগ করা। আপনার জমানো টাকা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ বিনিয়োগে রাখুন। এই হিসাবের টাকাগুলো অন্যকোন কাজে ব্যবহার করবেন না, এমনকি কোন জরুরি প্রয়োজনেও না। এই কাজটি আপনার প্রথম পদক্ষেপটি পুরন করবে (উপার্জন বাড়ানো)।

৪. ঋণ করা থেকে বিরত থাকুন যা আপনার উপার্জন বাড়াবে না: এমন একটি নিয়ম গেথে রাখুন যে আপনি কখনই ঋণ করে কিছু করবেন না, যা আপনাকে উপার্জন বাড়াবে না। আমি ধার করে গাড়ী কিনেছি, কারন তা আমার উপার্জন বাড়াতে সহায়তা করবে। ধনী লোকেরা কর্জ করে বিনিয়োগ করে, কারন, বিনিময়ে ফেরত হিসেবে অর্থের ধারা বৃদ্ধি করতে পারবে। দরিদ্র লোকেরা কর্জ করে দৈনন্দিন জিনিসপত্র কেনে যা দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করে এবং ধনীকে আরু ধনী।

৫. টাকা কখনও ঘুমায় না: ঘড়ি, শিডিউল বা ছুটির দিন বোঝে না এবং আপনারও বোঝা উচিত নয়। যার ভালো কাজ করার উদ্যম আছে, অর্থ তাকেই ভালোবাসে। ২৪ বছর বয়সে আমি সুপারস্টোর এ কাজ করতাম। স্টোরটি সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হয়ে যেতো। কিন্তু অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য দশটা পর্যন্ত কাজ করতাম। ভাগ্যবান ব্যক্তি হওয়ার আশায় কখনও বসে থাকা যাবেনা। অন্যের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে।

৬. দরিদ্রতার কোন ভিত্তি নেই: আমিও দরিদ্র ছিলাম, এখন তা দুধু পান করতে গেছে। যেসব আইডিয়া আপনাকে দরিদ্র বানাচ্ছে, ঝেড়ে ফেলে দিন। বিল গেটস এর উক্তিটি নিশ্চয়ই মনে আছে, “যদি দরিদ্র হয়ে জন্মাও সেটা তোমার দোষ নয়। কিন্তু যদি দরিদ্র হয়ে দুনিয়া ত্যাগ করো সেটা তোমার দোষ।”

৭. মিলিয়নিয়ার পরামর্শক নিন: আমাদের অনেকেই দরিদ্র অথবা মধ্যম শ্রেণীর পরিবার থেকে এসেছি এবং আমাদের ধারনাগুলো সেই মধ্যম মানেরই। আমি অনেক মিলিয়নিয়ারকে অধ্যয়ন করেছি এবং তারা যা যা করেছে আমিও তাই সরাসরি অনুসরন (ডুপ্লিকেট) করেছি। আপনার ব্যক্তিগত মিলিয়নিয়ার নির্বাচন করুন এবং তাদের নিয়ে অধ্যয়ন করুন।

৮. লক্ষ্য স্থির করুন ১০ মিলিয়নের, ১ মিলিয়ন নয়: সবচেয়ে বড় ভুল করেছি, বড় চিন্তা না করে। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, লক্ষ্য যেন এক মিলিয়নের চেয়ে বেশি হয়। এই গ্রহে অর্থের অভাব নেই, আছে শুধু বড় চিন্তার।

উপরের পদক্ষেপগুলো অনুসরন করলে ধনী বনে যাবেন। একারনে আপনাকে যারা লোভী বলবে, তাদের পরিত্যাগ করুন। পরিত্যাগ করুন অল্প পরিশ্রমে, দ্রুত পদ্ধতিতে অধিক ধনী হওয়ার ধারনাকে। নৈতিকতা বজায় রাখুন, কখনও হাল ছেড়ে দিবেন না, তবেই আপনি তা হতে পারবেন। তারপর অন্যকে আপনার জায়গায় আসতে সহযোগিতা করবেন।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply