প্রতিদিনের ৭ টি কাজ আপনাকে স্মার্ট বানাবে

ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে কাজ করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। সহজ অভ্যাসগুলোর মধ্য দিয়ে আপনারটি এগিয়ে নিন। আপনি হয়তো ধারনা করতে পারেন যে, বুদ্ধিমত্তা বা সৃজনশীলতা শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিরই আছে। কিন্তু গবেষনা দেখায় যে আপনি ভুল। আমরা কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেই এবং এর জন্য যেসব কাজ করি সেসব কাজই আমাদের মানসিক বুদ্ধিমত্তাকে অশ্বশক্তিতে উন্নত করে।

একটি গবেষনায় প্রশ্নকর্তা আত্ম-উন্নয়নের উপর জোড় দিয়ে কিছু জনসমষ্টিকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে স্মার্ট করে তুলতে আপনি কী করবেন? এর বিপরীতে উত্তর দিয়েছেন বিভিন্ন পাঠক, মেডিটেটরস, প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব এবং উদ্যোক্তা। তাদের প্রদত্ত উত্তরের ভিত্তিতে গবেষনায় কিছু কাজ নির্বাচন করেন যা অনুশীলনে ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করা যাবে। এখানে এসব বিষয়ই লেখা হয়েছে:

১. স্মার্ট হোন আপনার অনলাইন সময়ে: প্রতিবার অনলাইনে প্রবেশ মানে এই নয় যে আপনি সামাজিক যোগাযোগের সাইট নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন অথবা প্রতিদিন আপনার প্রিয় ছবি আপলোড দেয়ায় মগ্ন থাকবেন। ইন্টারনেট জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম যেমন, অনলাইন বিভিন্ন কোর্স, শব্দ-ভান্ডার তৈরি ইত্যাদি। পোকার খেলার কিছু সময় মানসিক পরিচর্যায় নিয়োজিত করুন।

২. কী শিখলেন লিখে ফেলুন: এটি খুব সুন্দর বা বড় হওয়ার প্রয়োজন নেই; কিন্তু কিছু সময় ব্যয় করে প্রতিফলনমূলক রচনা লিখে ফেলুন যা নিশ্চয়ই আপনার মগজশক্তি বৃদ্ধি করবে। ইয়োগা শিক্ষক ক্লাউডিয়া আজুলা আলটুচার সুপারিশ করেন যে, প্রতিদিন ৪০০ শব্দ লিখুন যা আপনি শিখেছেন। এই নীতির সাথে একমত প্রকাশ করেছেন বে-সাইড বায়োসাইন্স গবেষক মাইক জিয়া।

৩. একটি “করেছি” তালিকা তৈরি করুন: সৃজনশীলতার একটি বড় অংশ হলো আত্মবিশ্বাস এবং সুখানুভুতি। তাই, ভিসি মার্ক এ্যান্ডারসেন বলেন যে, এখনও করবেন এমন তালিকা তৈরি না করে কী করেছেন তার তালিকা তৈরি করুন।

৪. পাজল গেম খেলুন: বোর্ড গেম বা পাজল গেম শুধু মজা করার জন্য নয় এগুলো আপনার ব্রেইনকে সচল রাখে। গেম (স্ক্র্যাবল, ব্রিজ, চেস, ব্যাটলশিপ, কানেক্ট ফোর, এবং ডাজ নট ম্যাটার) খেলতে পরামর্শ দিয়েছেন জাই। নিনজা-স্তরের ব্রেইন বুস্টের জন্য মেধাকে অনুশীলন করান।

৫. স্মার্ট বন্ধু বানান: এতে আপনার আত্ম-সম্মানে লাগতে পারে, তবে শিক্ষার সবচেয়ে দ্রুততম পথ হচ্ছে আপনার চেয়ে চালাক লোকজনের সাথে মিশা বা ঘুরতে যাওয়া। সিমফোনি টেলিকম এর এ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সৌরভ শাহ লিখেন, “স্মার্ট সঙ্গ তৈরি করুন। মনে রাখবেন, আপনার আইকিউ হবে খুব নিকটবর্তী পাচ জনের আইজিউ এর গড়।”

ডেভেলপার মানাস জে সালোই বলেন, “স্মার্ট লোক দিয়ে আপনাকে ঘিরে ফেলুন। আমি একজন গড় মাপের কোডার, কিন্তু সর্বদা প্রযুক্তির নেতাদের সাথে সময় ব্যয় করি। এতে আমি বুঝতে পারি আমার অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।”

৬. অধিক পড়ুন: এটি অখাদ্যরকম কিছু নয়। কিন্তু অনেকেই এর প্রতি অনিহা প্রকাশ করেছেন। পড়া স্পস্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম ব্রেইন-বুস্টিং উপাদান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটি হতে পারে দৈনিক প্রত্রিকা থেকে শুরু করে ফিকশন বা নন-ফিকশন টাইপের বই। কিন্তু সবাইকে সংখ্যার ব্যাপারে একমত হতে দেখা গেছে যে, অনেক পড়তে হবে।

৭. অন্যের কাছে ব্যাখ্যা করুন: আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, “যদি আপনি সহজ ভাবে ব্যাখ্যা না করতে পারেন, তার মানে আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারেন নি।” অন্যান্যরা বলেন, “নিশ্চিত হোন যে আপনি যা জেনেছেন বলে ভাবছেন তা যেন আসলেই জানা হয় এবং তথ্যগুলো আপনার মগজে গেথে আছে। আরও নিশ্চিত হোন যে, আপনি অন্যের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারছেন।”

উপরের এই কাজগুলো প্রতিদিন করতে পারলে আশা করা যায় নিজেকে উন্নত করা যাবে।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply