লেখালেখির মনস্তাত্বিক উপকারিতা: রিচার্ড ব্রানসন এবং ওয়ারেন বাফেট কেন নিয়মিত লিখেন

যখন আপনি লেখক হতে চান, আমি আপনাদেরকে অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে দেখবো; যেমন, টেবিলের উপর বাকা হয়ে বসে এবং কাগজ ভাজ করে একা একা গোপনে উপন্যাস লেখা শুরু করবেন।

কিন্তু আমার কাছে তার চেয়ে বেশি কিছু মনে হয়। লেখা হলো নিজের চিন্তাকে কাগজে রাখা-যা আমাদের লেখক বানায়- এমনকি যদিও কোন গদ্যরচনা করার মতো উপাদান না থাকে।

আমি জানি, আমি জানি। কেউ না কেউ লেখার উপকারিতা নিয়ে নিয়মিত ব্লগিং করে যাচ্ছে। এবং কোন পক্ষপাতিত্বপূর্ন ঈঙ্গিত পাওয়া যায় নি। ইহা সত্য যে আমিও কোন কিছু লেখার ক্ষমতা রাখি।

সত্যি বলতে কি, লেখালেখি আমার কাজ না। আমি যা করি তার একটি অংশ মাত্র। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যা ঘটে আমি তা-ই লিখি।

ব্যক্তিগত কথাসাহিত্য আমার কাছে অনেক উপভোগ্য বিষয় কারন আমি জানি অনেক(অর্থনৈতিকভাবে) সফল ব্যক্তি গোপনীয়ভাবে নিয়মিত লেখক।

  • ওয়ারেন বাফেট বর্ণনা করেন যে, লেখালেখি হলো চিন্তাকে শোধন করার চাবিকাঠি
  • রিচার্ড ব্রানসন একদা বলেন যে, আমার সবচেয়ে অপরিহর্য আমল ছিল আদর্শ মাপের স্কুল নোটবুক। যা তিনি নিয়মিত লিখতেন।
  • এইবার সবচেয়ে মজার  বিষয়টি বলতে যাচ্ছি যে, বিল গেটস ব্লগিং করার জন্যও সময় পান এবং নিয়মিত ব্লগিং করেন।

এছাড়াও আরও অনেক উদাহরন আছে, যা সুন্দরভাবে প্রকাশিত আছে Daily Rituals বইটিতে।

এইসব ক্ষেত্রে, চিন্তা করার, অনুভুতি প্রকাশ করার এবং সৃজনশীলতাকে উতসাহ দেয়ার জন্য লিখন একটি অন্যরকম যন্ত্র। কেবিনে বসা উপন্যাসিকরা নরকে যাক।

অনেক মানুষের জন্য অবিশ্বাস্য রকমের উপকারি পথ হতে পারে লিখন।

আসুন দেখি, লেখালেখি কিভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে এবং কিভাবে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এর উপর কিছু গবেষনা।

লেখালেখি আপনাকে সুখি হতে ভুমিকা রাখে

লিখনের উপকারিতা আসে অনুভুতি প্রকাশমূলক লেখা থেকে। এবং কাগজে লিখে ফেলা যা আপনি অনভব করেন। উদাহরন- জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তাভাবনাগুলো লিখে ফেলাটা এক প্রকার অনুভুতি প্রকাশমূলক লেখা হতে পারে। একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, এটি অনুপ্রেরনা পেতে সহায়তা করে। এমনকি ব্লগিং করারও সন্দেহাতীতভাবে অনুরূপ উপকারিতা রয়েছে।

লওরা কিং এর গবেষনা দেখায় যে, ভবিষ্যত লক্ষ্য এবং স্বপ্ন সম্পর্কে লেখালেখি মানুষকে সুখি এবং স্বাস্থ্যবান করে। একই রকমভাবে, অনেক দলিলও আছে যে, জার্নাল এ লেখালেখিও মানুষকে সুখি হতে সাহায্য করে।

অনেকে অনুভুতি প্রকাশমূলক লেখা ছেড়ে দেয়, কারন তারা অনেকেই জানে না আসলে এটি কোন ধরনের লেখা। আমার সাথে থাকুন, বাকি পোস্টের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করবো এটি কী এবং তার আরও উপকারিতা।

উন্নত চিন্তা ও যোগাযোগ করতে নেতৃত্ব দেয়

অনুভুতি প্রকাশ করতে, অভিজ্ঞতা ভাগ করতে এবং অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয় শব্দ নিয়ে অলসতা। বিশেষভাবে, যখন অনুপ্রেরনামূলক বার্তা গ্রহন করতে চায়। যখন জিহ্বায় জড়তা ভর করে এবং আপনি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছেন না, তখন তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক হয়ে উঠে। ইহা আপনার অশোভন চিত্র তুলে ধরে এবং নিয়মিত লিখন আপনাকে এর থেকে দুরে রাখবে। আবেগপ্রবন লেখা এবং কঠিন বিজ্ঞান (যেমন- গণিত) দুটিতেই লেখাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

কঠিন সময় ব্যবস্থাপনার জন্য কি লিখনি একটি হাতিয়ার?

আঘাত পাওয়ার মতো ঘটনা এবং অনুভুতি প্রকাশমূলক লেখার ভিতরে একটি জটিল সংযোগ রয়েছে। কিছু গবেষনা থেকে পাওয়া যায় যে, মানিসিক আঘাত পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে গেলে তা নিয়ে লিখা মূল বিষয়ে ফেরত যাওয়ার শক্তিশালী পথ খুজে দেবে। যা ঘটে গেছে তাকে সহজে মেনে নিতে সহযোগিতা করবে।

একটি গবেষনা দেখায় যে, সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে যারা নিয়মিত অনুভুতি প্রকাশমূলক লেখালেখিতে অভ্যস্ত ছিলেন, তারা অন্য আরেকটি চাকরি খুজে নিতে পেরেছিলেন।

পুরোনো আরেকটি গবেষনায় পাওয়া যায় এবং অংশগ্রহনকারীরা বলেন যে, যেহেতু আমার আঘাত পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কারও সাথে আলাপ করিনি কিন্তু কাগজে লিখেছি, অবশেষে আমি তার সাথে পেড়ে উঠেছি। এখন এটি আমাকে পিড়া দেয় না।

লিখন আপনাকে সমসাময়িক রাখে

লিখন হলো চিন্তার অনুশীলন। শারীরিক ব্যায়ামের মতো বয়সের সাথে মিল রেখে আকৃতি দিতে সাহায্য করে। গবেষনায় দেখা গেছে, হাতে লেখা আইডিয়া জ্ঞানগর্ভ অনুশীলনের সমান। বন্ধুত্ব যেমন সামাজিক আন্তক্রিয়ায় আমাদের সুখি ও আনন্দময় রাখে, ঠিক তেমনি লিখন আমাদেরকে ব্যক্তিগত আনন্দ দান করে। এটি আমাদেরকে সবসময় চিন্তা করতে ব্যস্ত রাখে এবং মনের জং দুর করে।

লিখন উন্নত কিছু শিখতে পথ দেখায়

একটি কথা আছে, শিখ যেন তুমি শিখাতে পার। ব্লগিং করার পূর্বে লেখকের কান” ধারনাটি আমার মনে কখনই আসে নি। উপভোগ্য প্রবন্ধ লেখার জন্য কিছু বিষয় দরকার পরে যেমন নতুন তথ্য, অনুপ্রেরনা এবং গভীর কোন বিশ্লেষন। আমি বই পড়েছি, রেডিও শুনেছি, এবং ভিডিও দেখেছি যেন আমি কিছু শিখতে পারি। ভালো ধারনার উৎসুক হওয়া আপনাকে গভীরভাবে ভাবতে এবং গবেষনা করতে শিখাবে। সুন্দর একটি প্রবন্ধ লিখার মাধ্যমে, বড় আইডিয়াকে কার্যকরভাবে ট্যাকল দিতে পারবেন।

অতএব, এখনই লিখার জন্য তৈরি হয়ে নিন। প্রতিদিন মিনিমাম ৫০০ শব্দ লেখার অনুশীলন করুন। আস্তে আস্তে তার দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করুন।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply