স্টুডেন্ট স্টার্টাপ: ব্যবসায় শুরু করার উপযুক্ত সময়- বিশ্ববিদ্যালয়

পরীক্ষার চাপ সামলানো, রসদ খোরাকের অর্থ উপার্জন, বই কিনার টাকা যোগান দেয়া, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা সামাজিক জীবনে খাপ খাইয়ে চলার জন্য নতুন ব্যবসায় শুরু করা সর্বশেষ পন্থা হয়ে থাকে। কিন্তু এটি ঠিক নয়।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু করা হয়েছে। তখন ব্যবসায় শুরু না করার অনেক কারন থাকে: আমাকে পড়ায় মনোযোগি হতে হবে অথবা আমি ততোটা অভিজ্ঞ নই। কিন্তু অতি শীঘ্রই আমি বুঝতে পারলাম যে, জীবনের বহু সময় পার করার পরও বলতে পারি “এখনও উপযুক্ত সময় আসেনি”। বস্তত, বিতর্ক করবো যে, বিশ্ববিদ্যালয় “উপযুক্ত সময়” হওয়ার খুব কাছাকাছি।

ছাত্ররা এতে ডাইভ দেন আর না দেন, এখানে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হলো- বিশ্ববিদ্যালয় সময়ই নতুন ব্যবসায় শুরু করার জন্য উপযুক্ত।

# প্রচুর পরিমান রিসোর্স:  নতুন ব্যবসায় শুরু করলে, কোন বিজনেস ডিগ্রি লাগবে না অথবা কিভাবে পন্য/সেবা উৎপাদন করতে হয় তার পুঞ্জিভুত অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলবে। একদা উপলব্ধি করলাম: আমি এক্সপার্টদের দ্বারা বেষ্টিত। ক্যাম্পাসে থাকাকালিন সময়ে অধিক জানা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক পাওয়া যাবে যারা আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে। প্রথম পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে প্রফেসরদের কাছ থেকে ফ্রি কনসাল্টিং সার্ভিসটি আদায় করে নেয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে পরার পর তারা আর সেই সেবাটি দিতে রাজি হবে না। তাই নিশ্চিত হোন যে, হাতের কাছে থাকা প্রফেসর ও মেন্টরদের সুবিধাটি আপনি কাজে লাগাতে পেরেছেন।

# গড়ে উঠা নেটওয়ার্ক এবং সমর্থন: যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আপনার মতো আপনার বন্ধুরাও “বিশ্ববিদ্যালয় বীজ” হয়ে ঘিরে থাকবে।কলেজ ফুটবল গেম খেলার সময় লক্ষ্য করবেন, পুরো কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জোট একটি বিষয়ে জোটবদ্ধ হচ্ছে। আপনাকে চিনে কি চিনে না, তা কোন ব্যাপার না। শুধু নিশ্চিত করতে হবে যে, বিশ্ববিদ্যাল/কলেজ সফল হতে যাচ্ছে এবং মহান কিছু করতে যাচ্ছে।

আমার প্রথম বড় মার্কেট ছিলো ছাত্রবৃন্দ। তারা তাদের পরিবার-বন্ধু বান্ধবকে বলা শুরু করলো এবং আমার মিশন সফল হওয়া শুরু হলো।

# স্বার্থপর গ্রহনযোগ্য হয়: বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার দায়িত্ব থাকতে পারে। বাস্তব জীবনে এগুলো ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। আপনাকে স্বার্থপর হওয়ার মতো কাজও করতে হতে পারে। আপনার হৃদয়, মন, এবং অর্থ আপনার বিশ্বস্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুন।

# দুরিভুত করার সুনাম আছে: আমরা অলস, সামাজিক যোগাযোগ সাইট দ্বারা প্রভাবিত এবং কঠিন কাজ করতে জানি না। এই নেতিবাচক আচরনগুলো উদ্যোক্তাদের জন্য উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময় নিয়ে করা কাজ অনেক সুন্দর হয়। তাই আইডিয়া পাওয়া মাত্র কোম্পানি গঠন করে ফেলুন কারন আপনি এখনও যুবক। যুবশক্তিকে সুবিধায় পরিনত করুন এবং দীর্ঘকালিন ব্যবসায় করার সুনাম অর্জন করুন।

# ব্যর্থ হওয়াটা মেনে নেয়া যায়: আমি ভাবতে পছন্দ করি যে বিশ্ববিদ্যালয় বছরগুলো আমার জন্য মহান সময়। এই সময়ে ভুল করলেও কিছু যায় আসে না। এমনকি, ব্যর্থ হওয়া মানে আপনি চেষ্টা করছেন। যদি আমি অত্যন্ত আরামে থাকি এবং আমি প্রত্যাখ্যাত না হই, তার মানে আমি নিজেকে প্রসারিত করছি না। যদি কোনকিছুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন, তারপরও ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। যখন পরিকল্পনা মাফিক কাজ না হতে থাকে এবং প্রায়ই ঘটে, তাকে অভিজ্ঞতা বলে। অভিজ্ঞতা জীবনের বাকি সময় গুলোতে সাথে থাকে এবং আশপাশের সকলকিছুতে অন্ত:দৃষ্টি দিতে সহায়তা করে।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply