কিংফিশার এয়ারলাইন্স ইন্ডিয়ান আকাশে অপারেশন শুরু করে ২০০৫ সালে। এয়ারলাইন্সটি নিয়মিত ভ্রমনকারীদের কাছে অতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠে। যেহেতু কিংফিশার এয়ারলাইন্স চেয়ারম্যান ড. বিজয় মালয়া যাত্রীদের কে “অতিথি” হিসেবে মূল্যায়ন করতে চান, তাই তাদেরকে কিছু ভিন্ন সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথম ভ্রমনকারীদের ভিতরে প্রবেশের জন্য কিছু সময় বেশি ব্যয় হয়। আতিথেয়তা, ইন-ফ্লাইট বিনোদন, উষ্ঞ ও মার্জিত সেবা (এয়ারপোর্ট এবং ইন-ফ্লাইট উভয়ই) তাদেরকে বিস্মিত করেছে।

যাত্রী এয়ারপোর্ট এ পৌছা মাত্রই পার্থক্যটা বুঝতে পারেন। গাড়ী থেকে নামামাত্রই রিসিপশনিস্ট অভ্যর্থনা জানায়। সে-ই তাদের ব্যাগ চেক-ইন কাউন্টারে নিয়ে যায়। এখানে আবারও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কিংফিশার নিশ্চিত করে যে, অতিথিরা অল্প সময় ব্যয় করে যাত্রা শেষ করতে পারেন। স্মার্টলি-ড্রেসড-গার্ল চেক-ইন কাউন্টারে স্বাগতম জানায় এবং বোর্ডিং পাস ইস্যু করে। প্রত্যেক অতিথিকে ব্যক্তিগত বিনোদন সুবিধার জন্য সিটের পিছনে এলসিডি স্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে। স্মার্ট এবং বিনয়ী ক্রু সার্বক্ষনিক সহযোগিতায় নিয়োজিত।

আরাম, বিনোদন, খাবার এবং ইন-ফ্লাইট সার্ভিস এ সর্বোচ্চ আনন্দ দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কিংফিশার কাজ শুরু করে। বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা এবং “শুধু এখান থেকে ওখানে” ভ্রমনের চেয়ে বাড়তি সেবা দানের প্রতিশ্রুতি দেয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ফিংফিশারকে কিভাবে পরিচালনা করা হয়? প্রত্যেককে অলাদাভাবে প্রশিক্ষন দেয়া হয় এবং প্রত্যেক কার্য্যপ্রণালী এমনভাবে সজ্জিত করা হয় যা অতিথির আকাংখার বাইরে। ভ্রমন গুনাগুন এমনভাবে সজ্জিত যেন মনে হয়; দক্ষ কিন্তু উষ্ঞ, স্টাইলিশ কিন্তু আরামদায়ক এবং প্রতি পদক্ষেপেই উপযুক্ত। এয়ারলাইনটির আরও প্রতিশ্রুতি- অতিথিদের নিরাপদ ও উপভোগ্য ভ্রমন অভিজ্ঞতা দেয়া। সংক্ষেপে, তারা জানে অতিথিরা কী চায় এবং তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়।

উপযুক্ত ফ্লাইট শিডিউল ও সময়ানুবর্তিতার পাশাপাশি, কিংফিশার জানে কিভাবে প্রতিযোগিতামূলক সেবামূল্য নির্ধারন করতে হয়। খুব নিকটবর্তী প্রতিযোগীদের থেকে তুলনামূলক বেশি মূল্য ধরে থাকে। বোয়িং ৭৩৭এস এর তুলনায় বেশি প্রশস্ত এয়ারবাস এ৩২০এস কে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের বহর পরিচালনা করা হয়। অতিথিদের বিজন্যাস ক্লাস আরামদায়ক ভ্রমনের জন্য অতিরিক্ত লেগরুম এবং এলবো স্পেস সমৃদ্ধ আছে। বিজন্যাস ক্লাস সার্ভিসে আছে ৪৮ ইঞ্চি লেগরুমসহ লেদার সীট যা ১২৫ ডিগ্রিতে হেলানো থাকে। উন্নত মানের খাবার ড. মালয়ার উচ্চাভিলাসী টেস্টকে প্রতিফলিত করে। সুস্বাদু খাবারগুলো থাকে নরওয়ে থেকে আগত শেফ দিয়ে রান্না করা এবং স্যালমন ও সুস্বাদু লবস্টার অন্তর্ভূক্ত।

কিংফিশারই হলো প্রতি সীটে প্রথম স্ক্রিন ইনস্টলকারী। ফান টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে রেকর্ডকৃত খেলা, মিউজিক, ফ্যাশন ও বিজন্যাস কন্টেন্ট সরবরাহকারী। আট বছরের শিশু এই সুবিধাগুলো পেয়ে অনেক খুশি এবং তাই অভিভাবক পুনরায় ভ্রমন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে ইন-ফ্লাইট টেলিভিশনে প্রচারিত চেয়ারম্যানের বক্তৃতার মধ্য দিয়ে কিংফিশার এর সেবার মান ও ফিলোসফি জানিয়ে দেয়া হয়। এখানে তার বক্তব্যের অংশ তুলে ধরা হলো:

বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা যোগান দেয়া আমার প্যাশন। যেহেতু কাজ ও খেলাধুলা একই সাথে চলে, তাই প্রতিশ্রুতি পূরণ ও স্ট্রেসফুল কাজ সম্পাদনের পর, আমি নিশ্চিত, আকাশ ভ্রমনে একটু স্বাচ্ছন্দ ও শিথিলতা প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাথে থেকে এটা হতে সহযোগিতা করছি। তদোপরি, এটা নিশ্চিত করি যে কিংফিশার এর প্রতিটি এয়ারক্রাফ্ট আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখছে। আমি গর্বিত যে, আমাদের নতুন ফ্লাইটবহরগুলোতে সর্বাধুনিক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আপনাদের সেবায় নিয়োজিত করতে পেরেছি। অঙ্গিভূত করেছি ব্যক্তিগত ও স্বাতন্ত্র বিনোদন ব্যবস্থা যা মনে মনে চেয়েছিলেন।

দেশের বাইরে ভ্রমনে সাক্ষাত পাবেন অতি সমৃদ্ধশালী প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ক্রু যারা আমার নিজ হাতে বাছাইকৃত। তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে এমনভাবে আপ্যায়ন করতে যেন আপনি আমার নিজের বাসার অতিথি। সুতরাং, দৈনন্দিন জীবনের সকল চাপ ঝেড়ে ফেলে দিন এবং কিংফিশার এর সাথে পাচ তারকা অভিজ্ঞতা উপভোগ করুন। কিংফিশার এয়ারলাইন্সে ভ্রমনে আমন্ত্রন যানাচ্ছি। আমার টিম এর সাথে অবিস্মরনীয় ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিন এবং আমি প্রতিদিন এই সেবা দেয়ার প্রচেষ্টায় থাকি।

তথ্যসূত্র: কিংফিশার ওয়েবসাইট

Comments

comments

Leave a Reply