ছোট কিছু কাজের অনুশীলন আত্নবিশ্বাস বাড়ায়

অপ্রতিরুদ্ধ এবং ভিতুর পার্থক্যই হলো আত্নবিশ্বাস। নিজের সম্পর্কে ধারনা অন্যের হৃদয়ঙ্গম করাকে প্রভাবিত করে। আত্নউপলব্ধিই বাস্তবতা। যত বেশি আত্নবিশ্বাস তত বেশি সফলতার সম্ভাবনা।

যদিও কিছু কিছু উপাদান স্বনিয়ন্ত্রনের বাইরে, তারপরও কিছু উপাদান আছে যা অবিরতভাবে চালিয়ে গেলে দৃঢ় আত্নবিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব। সম্ভাবনা অর্জন করতে, নিচের কৌশলগুলো প্রয়োগ করে মানসিক শক্তি অর্জন করা যেতে পারে।

১. তীক্ষ্ন-শানিত পোশাক পড়া

যদিও পোশাক ব্যক্তিকে গঠন করে না, তবে ব্যক্তি নিজেকে কেমন উপলব্ধি করে তার উপর নিশ্চয়ই এর প্রভাব রয়েছে । শারিরিক  বাহ্যরুপ নিয়ে কেউই এত বেশি সচেতন নয়, যতটা আপনি। যখন আপনাকে ভালো না দেখাবে, তখন আপনি যেই ব্যক্তিত্ব বহন করেন তার আন্ত:যোগাযোগ প্রক্রিয়া পরিবর্তন হয়ে যাবে। ভালো ড্রেস আপ করা ব্যক্তি বেশি আত্নবিশ্বাস বহন করেন। পার্সনাল এ্যাপিয়ারেন্স এর যত্ন নিয়ে, এই সুযোগটিকে কাজে লাগানো যায়। অধিকাংশ প্রেক্ষিতে, গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শালিন পোশাক পরিধান, এবং সাম্প্রতিক ট্রেন্ড সম্পর্কে আবগত থাকার মাধ্যমেই গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি সম্ভব।

আবার, এর মানে এই না যে, অনেক টাকা খরচ করে তা করতে হবে। একটা নিয়ম অনুসরনই যথেষ্ট, “Spend Twice as Much, Buy Half as Much”. অনেকগুলো সস্তা কাপড় ক্রয়ের পরিবর্তে, একই টাকা দিয়ে ভালো মানের অর্ধেক পোশাক কিনুন। দীর্ঘমেয়াদের জন্য এটি খরচ বাচিয়ে দেয়, কারন, সস্তা আশাকের চেয়ে মানসম্মত ব্যয়বহুল পোশাক আরাম দায়ক ও দীর্ঘসময় ব্যবহার করার উপযোগী হবে। এটাই স্বাভাবিক। সস্তা পোশাক আলমারিতেই ভালো মানায় না, আর শরীরে মানাবে কী উপায়ে?

২. দ্রুত হাটুন

ব্যক্তি নিজেকে কেমন উপলব্ধি করে তা পরিীক্ষা করা যায়, তার হাটার স্টাইল পরখ করে। ধীর গতির? ক্লান্ত?  বিশাদময়? বেদনাদায়ক? নাকি তেজোময় ও অভীষ্টসাধনে রত? আত্নবিশ্বাসী ব্যক্তি দ্রুত হাটেন। তাদের আছে পৌছানোর জন্য গন্তব্যস্থল, সাক্ষাত করার জন্য ব্যক্তি, এবং সম্পাদন করার জন্য গুরুত্বপূর্ন কাজ। এমনকি, যদি তাড়া না ও থাকে, হাটার স্টেপে তেজ যোগ করে আত্নবিশ্বাস বাড়ানো যায়। হাটার গতি ২৫% বৃদ্ধি ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ন দেখাবে ।

৩. ভালো অঙ্গভঙ্গি

অনুরূপভাবে, উপস্থাপনার যে কৌশল অবলম্বন করে, তা ব্যক্তির গল্প বলে দেয়। অবনত কাধ এবং নিরুদ্যম চলাফেরা আত্নবিশ্বাসের ঘাটতির নির্দেশনা দেয়। যা করছে সে ব্যাপারে আগ্রহী নয় এবং নিজেকে গুরুত্বপূর্ন মনে করে না। উন্নত অঙ্গভঙ্গি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে আত্ববিশাসি অনুভব করতে পারবেন। সোজা হয়ে দাড়ান, মাথা উচু রাখুন এবং আই কন্টাক্ট সক্রিয় রাখুন। অন্যের উপর ইতিবাচক ইমপ্রেশন ফেলতে পারবেন এবং তাৎক্ষনিক সতেচন বোধ করবেন।

৪. ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন

আত্নবিশ্বাস গড়ুার আরেকটি পন্থা হলো প্রেষনাদায়ক বক্তৃতা শোনা। দুর্ভাগ্যবশত, মহান বক্তব্য শোনার সুযোগ খুবই কম ও বিরল। এই চাহিদার যোগান দিতে পারেন নিজের কমারশিয়াল তৈরি করে। ৩০-৬০ সেকেন্ডের বক্তৃতা লিখুন যাতে থাকবে আপনার ইতিবাচক শক্তিশালী দিকগুলো। যখনই কনফিডেন্স বুস্ট দরকার, আয়নার সামনে দাড়িয়ে উচ্চস্বরে (অথবা নিম্নস্বরে, যদি প্রিফার করেন) পাঠ বা আবৃত্তি করুন।

৫. অন্যের প্রশংসা করুন

যখন নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক ধারনায় মগ্ন থাকে, তখন তা অপমান ও পরচর্চার মধ্য দিয়ে অন্যের উপর প্রয়োগ করা হয়ে যায়। নেতিবাচক এই চক্রকে ভেঙ্গে দিতে, অন্যকে প্রশংসা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরচর্চা বা গীবত করা থেকে বিরত থাকুন এবং আশপাশের লোকজনকে অনুপ্রানিত করুন। এই পদ্ধতিতে নিজেকে গ্রহনযোগ্যও আত্নবিশ্বাসি করা যায়। অন্যের মধ্যে ভালো খুজলেন, তো পরোক্ষভাবে নিজের ভিতর উত্তম প্রবেশ করালেন।

৬. সামনের সাড়িতে বসুন

স্কুলে, অফিসে, এবং গন জমায়েতে সাধারনত পিছনে বসার সংগ্রাম করে। পিছনে বসার কারন হলো- দৃশ্যমানতার ভয়। এর দ্বারা আত্নবিশ্বাসের স্বল্পতা প্রকাশ পায়। সামনের সাড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়ে, এই অযৌক্তিক ভয় থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। এমনকি, সামনে বসে আলোচনায় অংশ নিলে নিজেকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ন হিসেবে দৃশ্যমান হবে।

৭. কথা বলুন

গ্রুপ ডিসকাশনে অনেকেই অংশ নিতে চায় না বরং  চুপ থাকে, কারন, তারা ভয় পায় এই ভেবে যে, বোকা কথার জন্য অন্যরা তাকে স্টুপিড বলবে। এই ভয় আসলে কেউ বিচার করে না। যা ভাবি তার থেকে মানুষ অনেক গ্রহনমূলক ও অভ্যর্থনাপূর্ণ। প্রতিটি গ্রুপ ডিসকাশনে ন্যুনতম একবারও কথা বলার উদ্যম প্রয়োগ করে আপনি ভালো পাবলিক স্পিকার হতে পারবেন।  নিজস্ব মতামতে দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে এবং সমকক্ষীদের নেতা হিসেবেও স্বীকৃতি পেতে পারেন।

৮. অবদান রাখায় মনোযোগ দিন

প্রায়ই স্বীয় অভিলাসের পিছনে আটকে থাকি। ক্রিয়াকেন্দ্র হিসেবে শুধুমাত্র নিজেকেই ধরে নেই এবং অন্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না। নিজেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে যদি বাকি মানুষদের প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়, তাহলে আর নিজের আত্নবিশ্বাস নিয়ে চিন্তাই করতে হবে না। আত্নপ্রত্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সবোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সমাজে অবদান রাখতে সহায়তা করবে। যত বেশি অবদান, তত বেশি সফলতা ও তত বেশি স্বীকৃতি।

সফলতা অর্জনে, আত্নবিশ্বাসের দরকার। ব্যর্থ হলে, অথবা প্রত্যাখ্যাত হলে; গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ইতিবাচক থাকা এবং পরবরতী সুযোগ সন্ধান করা। উপরের ছোট কাজগুলো আত্নবিশ্বাস অর্জন করতে সহায়তা করবে।

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply