তৈরি পোশাক শিল্পে সাব-কন্ট্রাক্টিং বিজন্যাস পদ্ধতি

টেক্সটাইল এবং ক্লোথিং প্রস্তুতকরন ও বিপণন বিশ্বব্যাপী এবং জটিল। শিল্পটি বায়ার কেন্দ্রিক। আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানিগুলো ফ্যাক্টরি থেকে পোশাক প্রস্তুত করে নেয়। আবার কিছু আছে প্রস্তুতকারক কেন্দ্রিক। তাদের পন্যগুলো হয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। যেমন-সুতা বা ইয়ার্ন, ফেব্রিক্স, প্রচলিত হ্যান্ডলুম প্রোডাক্টস, ট্রিমস এন্ড এ্যাক্সেসরিজ। সঠিক সময়ে প্রস্তুত ও প্রেরণ এ শিল্পে অগ্রগতি দান করে। পন্যের মূল্যও ভালো পাওয়া যায়। এসব ব্যাপার সবারই প্রায় জানা। তবে সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায় অসংগঠিত ও লৌকিকতাবর্জিত বলে, ততোটা পরিচিতি পায় নি। অনুমান করা হয় যে, পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি কাজ সাবকন্ট্রাক্টর দিয়ে করানো হয়।

এই শিল্পে স্বল্প খরচে ব্যবসায় শুরু করার জন্য ছোট যে কতোগুলো পন্থা রয়েছে, সাব-কন্ট্রাক্টিং তাদের মধ্যে অন্যতম একটি। এই রচনায় বের করে আনা হবে, পোশাকশিল্পের সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায়ের প্রসিডিওর।

সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায় কী?

ব্যবসায়টিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে, কোন একটা অর্ডারের পার্শিয়াল বা আংশিক কাজ করা যা প্রকৃতপক্ষে অন্যের দ্বারা গৃহীত। যে কোম্পানি এই কাজে নিয়োজিত তাকে বলা হয় সাব-কন্ট্রাক্টর। জব-ওয়ার্কার নামেও পরিচিত।

পোশাকশিল্পে, সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায়টি মুলত স্টিচিং এর কাজ। লেয়ার কাটিং, পোশাক ফিনিশিং ও প্যাকিং এর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা ও যন্ত্রাদি সংযোজনের প্রয়োজন পড়ে না। রপ্তানিকারকগন প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডের কাছ থেকে অর্ডার সংগ্রহ করেন। রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য সাব-কন্ট্রাক্টিং এর মাধ্যমে অন্যদের কাছ থেকে করিয়ে নেন।
অনেক সাব-কন্ট্রাক্টরগন আবার সরাসরি রপ্তানিও করে থাকেন। রপ্তানিকারকও কখনো কখনো সাব-কন্ট্রাক্টিং কাজ করে থাকেন। যখন রপ্তানিকারক পর্যাপ্ত অর্ডার না পান তখন সাব-কন্ট্রাক্টে অন্য এক্সপোর্ট হাউজ থেকে কাজ নেন। সুতরাং, সাব-কন্ট্রাক্টিং এর নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই যে, তারা শুধু সেলাই করে। ইন-হাউজ সুবিধা থাকলে, তারা কাটিং থেকে প্যাকিং এর কাজ গ্রহন করতে পারেন।

সাব-কন্ট্রাক্টিং স্টিচিং ওয়ার্কের উদ্ভাবনের কারন

বছর জুড়ে অর্ডার ভলিউমের অনিশ্চয়তা: পোশাক রপ্তানিকারকগন ফ্যাক্টরি সেটাপ দিয়ে থাকেন বার্ষিক গড় অর্ডারের ভিত্তিতে। পিক সিজনে যখন অতিরিক্ত অর্ডার চলে আসে, তখন সাব-কন্ট্রাক্ট এ কাজ উঠিয়ে নিতে হয়। এমনও দেখা যায়, এক্সপোর্টারগন সারা বছর জুড়েই সার্বিক অর্ডারের অর্ধাংশ অন্যদের কাছ থেকে করিয়ে নেন। আউটসাইড থেকে উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করে, রপ্তানিকারকগন ওভারহেড খরচ কমাতে চান। সারা বছর কাজে লাগে না এমন বিল্ডিংও মেশিনারিজ ইনস্টল করেন না। তাই, সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায়ের অস্তিত্ব জন্ম নিয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ নিয়ন্ত্রনে আনা: ব্র্যান্ড এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফেব্রিক ও কাচামাল সোর্সিং করে, ব্র্যান্ড এর প্রস্তুতকরন ব্যয় কমাতে পারে।
শ্রমিক আইনসংক্রান্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে: স্বদেশী ব্র্যান্ডগুলো সোর্সিং কৌশল বদল করছেন। এফওবি অর্ডারের পরিবর্তে, তারা সোর্সিং করছেন কাট-টু-প্যাক এর ভিত্তিতে। এর জন্য, ফ্যাক্টরি সেটাপ এর দরকার নেই। ব্র্যান্ডগুলো মনোযোগ দিতে পারে ডিজাইন ও খুচরা সরবরাহের প্রতি। সাব-কন্ট্রাক্টরকে কাটিং থেকে প্যাকিং পর্যন্ত কাজের জন্য নিয়োজিত করা হয়। যদিও পণ্যের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তারপরও কাটিং ও স্টিচিং এর কোওয়ালিটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে বলে তাদেরকে নিয়োজিত করা হয়।

কিভাবে বা কোথায় পাওয়া যাবে এই কাজ

এক্সপোর্ট গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার: আগেও বলেছি, পিক সিজনে রপ্তানিকারকগন নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতার অধিক অর্ডার গ্রহন করে থাকেন। এই সন্ধিক্ষনে, উৎপাদন কাজ সম্পাদন নিমিত্তে সাব-কন্ট্রাক্টরের অনুসন্ধান করা হয়। বহু সময় দেখা যায়, ইন-হাউজ প্রোডাকশন থেকে কম খরচ পরে বাইরে থেকে করিয়ে আনলে। তখন, সাব কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে কাজ করানো হয়।

ব্র্যান্ড: স্বদেশী ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে যাদের নিজস্ব প্রস্তুতকরন সুবিধা নেই, তারা সাব-কন্ট্রাক্টরকে  কাট-মেইক-প্যাক এর কাজ দেন। ট্রিমস এন্ড এ্যাক্সেসরিজ সোর্স করা হয় ব্র্যান্ড দ্বারা।

ডিজাইনার: নির্দিষ্ট কোন ডিজাইনের জন্য ছোট পরিমান পন্য দরকার পড়ে। নিজেরাই ফেব্রিক ও এ্যাক্সেসরিজ সোর্সিং করে থাকে। শুধুমাত্র স্টিচিং এর কাজটা অন্যের কাছ থেকে করিয়ে নেয়। এবং সাবকর্ট্রাক্টরের দ্বারস্থ হয়।

সংক্ষেপে সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবসায়ের ওয়ার্ক ফ্লো

নিচে সাব-কন্ট্রাক্টিং কাজের পদ্ধতি সংক্ষেপে লিখা হলো। সহজে বোঝার জন্য মনে করি সাবকন্ট্রাক্টর এক্সপোর্টারের কাছ থেকে অর্ডার পেয়েছেন।১. সাব-কন্ট্রাক্টর সেলাই মেশিন সেটাপ দিয়ে রপ্তানিকারকের সাথে যোগাযোগ করেন। দক্ষতা প্রদর্শন করে এবং তার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

২. তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক নিকটবর্তী সাবকন্ট্রাক্টরদের সাথে যোগাযোগ করে, স্যাম্পল দেখায় এবং দাম ঠিক করে। অধিকাংশ সময়ে পিস হিসেবে দাম ঠিক করে থাকে।

৩. ফেব্রিক এর বদলে কাট করা কাপড় পেয়ে থাকেন।

৪. সকল ট্রিমস এ্যান্ড এ্যাক্সেসরিজ আসে রপ্তানিকারক থেকে। তবে ভিন্নতাও থাকতে পারে। রপ্তানিকারক যদি চায়, সাবকন্ট্রক্টরকে দিয়েও সোর্সিং করিয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রে ট্রিমস এন্ড এ্যাক্সেসরিজ এর আলাদা বিল প্রস্তুত করতে হবে।

৫. পোশাক সেলাই করে, আংশিক কিংবা পূর্ণাংশ। পিস হিসেবে রেট ঠিক করে মেশিন অপারেটর নিয়োগ দেন। আর রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গুনাগুন নিরীক্ষক নিয়োগ দেন, সেলাই মান যাচাই করার জন্য।

৬. ইনসপেকশন শেষে রপ্তানিকারক বরাবর প্রেরণ করা হয়।

৭. এক্সপোর্টার কোওয়ান্টিটি ও কোওয়ালিটি দুইই আবার চেক করেন।

৮. প্রত্যেক অর্ডারের বিপরীতে আলাদা আলাদা ইনভয়েস প্রস্তুত করেন।

৯. তারপর কাজের পেমেন্ট পরিশোক করা হয়।

 

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply