অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে ইউরোপে পোশাক খাতে স্থানীয় ভোগ কমার পরও, উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানিকারকদের কাছে ইউরোপ আকর্ষনীয় মার্কেট। প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক পরিসর উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানিকারকদের বড় মার্কেট দখলে সুযোগ করে দেয়। ইউরোস্টেট, সিবিআই ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট রিসার্চ করে ইউরোপে পোশাকের চাহিদা সম্পর্কে জানতে কিছু স্টাডি, ড্যাটা ও সুপারিশ ব্যক্ত করা হলো।

১. আমদানি

1 (2)

Figure 1: ইউরোপিয় বায়ারদের আমাদানির হার ( তথ্যসূত্র: ইউরোস্টেট, ২০১৫)

 

 

2

Figure 2: লিডিং ইউরোপিয়ান বায়ার (তথ্যসূত্র: ইউরোস্টেট, ২০১৫)

 

 

 

Figure 3: যে যে পন্য তারা আমদানি করে থাকে (তথ্যসূত্র: ইউরোস্টেট, ২০১৫)

টেবিল ১: পণ্যের শ্রেনী ও সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে উন্নয়নশীল সাপ্লায়ার দেশগুলোর একটি তালিকা

55666

বিশদ ব্যাখ্যা ও সুযোগ

  • উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানিকারকদের কাছে ইউরোপের ঐতিহাসিক পোশাক প্রস্তুতকারকগন (ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, এবং জার্মানি) আকর্ষনীয় গন্তব্যস্থল।
  • ইউরোপের সামগ্রিক আমাদানির প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক পণ্য সরবরাহ করে সাপ্লায়ার হিসেবে প্রথম স্থান দখলে রেখেছে চীন। চীনের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। তাদের স্থানীয় শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় আগ্রহ কমে আসছে। স্বল্প খরচে উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়ান দেশগুলো।
  • সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাম্বোডিয়া, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আমদানি খুব বেড়েছে। কিছু ছোট সাপ্লায়ারও (মায়ানমার, ইথিওপিয়া, মাদাগাস্কার এবং কতিপয় আমেরিকান দেশ) ইউরোপের মার্কেটে প্রবেশের পথ খুজে পাচ্ছে। এর কারন হিসেবে দেখা হচ্ছে- উৎপাদন খরচ কম এবং জিএসপি সুবিধা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ক্যাম্বোডিয়ার শক্ত অবস্থানের পিছনে এই জিএসপির অবদান রয়েছে।
  • ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বস ছিলো পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক ঘটনা। ফলশ্রুতিতে, রপ্তানিকারকদেরকে কঠোর নীতিমালার ভিতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশগুলোতেও শ্রমিক আইন বিষয়ক বাধ্যতামূলক নীতিমালা অনুসরন করতে হবে। অবস্থার উন্নতির জন্য সময় দরকার হলে, দস্তখত ও অঙ্গিকার দিয়ে ইউরোপিয়ান কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।

টিপস

  • বায়ারদের সাথে স্ট্রাটিজিক ফিটই হলো গুরুত্বপূর্ণ। গুনগত মানের পোশাক প্রস্তুত করতে পারলে, মধ্য ও উচ্চ-মধ্যম সাড়িতে জায়গা করে নেয়া যাবে। প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন কোম্পানি ও বিলাশবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর আকর্ষনীয় দামে উচ্চমান সম্পন্ন পোশাকের সন্ধান করে থাকে। এসব ক্রেতা থেকে একটি সুবিধা পাওয়া যায়, তাদের অর্ডার কোওয়ান্টিটি স্বল্প থেকে মধ্যম পরিমানের হয়, যার জন্য ডেলিভারি প্রেসার খুব কম থাকে।
  • উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করা যায় যেন ইউরোপের মার্কেটে প্রবেশ করে। ক্রমবিকাশের লক্ষ্যে নিশে মার্কেট নির্বাচন করতে হবে এবং কম প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ মার্কেট নির্বাচন করতে হবে। আরেকটি সুপারিশ করা যায়, অপেক্ষাকৃত ছোট, স্বতন্ত্র স্পেশালিটি ‍শপ এর কাছে বিক্রি করুন।
  • ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জিএসপি সুবিধার বিস্তারিত নীতিমালা পর্যালোচনা ও পুনর্বিচার করা হবে। অব্যাহত প্রবৃদ্ধি নিমিত্তে ইউরোপিয়ান কমিশনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। কারন, তাদের সিদ্ধান্ত আপনার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
  • প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে ক্রেতার সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করুন। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করুন।

২. উৎপাদন

সব পোশাকই আমাদানি করে না, নিজেরাও কিছু কিছু পন্য উৎপন্ন করে থাকে। ইউরোপিয়ান ইন্ডাস্ট্রিতে পোশাক শিল্প এক মিলিয়ন কর্মী সমাহারে একটি বড় সেক্টর। সেখানে টেক্সটাইল ও ক্লোথিং সেক্টর হলো ছোট ও মধ্যম আকারের। প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায় ছোট কিন্তু স্পেশালাইড কোম্পানিগুলো টেক্সটাইল ও ক্লোথিং শিল্পে সংকটময় অবস্থানে রয়েছে। স্বল্প সময়ে ডেলিভারি দেয়া যায় বলে, অপেক্ষাকৃত কম মজুরি হওয়ায়, উন্নত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শ্রমিকের সহজলভ্যতার কারনে এবং সিএসআর কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে পশ্চিম ইউরোপিয়ান দেশগুলো পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে দাড়িয়েছে।

Figure 4: ইউরোপের পোশাক উৎপাদন (তথ্যসূত্র: এ্যাপারেন্ট প্রোডাকশন, ইউরোস্টেট, ২০১৫)

বিশদ ব্যাখ্যা ও সুযোগ

  • কিছু প্রোডাক্ট গ্রুপে শক্ত প্রবৃদ্ধি সহকারে ইউরোপিয়ান এ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি ভিন্ন চিত্র বিকশিত করেছে। ফ্যাশন এ্যাক্সেসরিজ এ উন্নতি হয় ১১ শতাংশ, চামড়াজাত পোশাকে ৭ দশমিক ৮। কিন্তু অন্য সব পণ্যের উৎপাদন কমেছে। নিট এবং ওভেন ক্লোথিং (-৩.৬%) এর হার এবং বেবি ওয়্যার (-৩.৭%) এর হার লক্ষনীয়।
  • ইউরোপিয়ান উৎপাদকদের টিকে থাকতে হলে পন্য ও কাচামাল দুটোতেই সৃজনশীলতা সংযুক্ত করতে হবে।
  • মহাদেশটির পর্তুগাল ছাড়া মূল উৎপাদক দেশগুলোতে উৎপাদন লক্ষনীয়ভাবে কমছে।

টিপস:

  • প্রাকৃতিক তুলা ও কাচামালসহ সৃজনশীল পন্য উৎপাদক পেতে পারেন এই মার্কেটে প্রবেশ ও উন্নতির সুযোগ। পশ্চিম ইউরোপের উৎপাদকদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে মার্কেটে প্রবেশের বাধা দুর করা যেতে পারে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশও অগ্রাধিকারী গমনপথ পেতে পারে।

৩. কনজাম্পশন

যদিও ২০১১ সাল থেকে ভোগ ক্রমহ্রাসমান, তারপরও ইউরোপ উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য আকর্ষনীয় মার্কেট।

Figure 5: ইইউ তে যে যে পোশাকের ব্যবহার ও চাহিদা রয়েছে

 

 

6 (2)

Figure 6: পোশাক আমদানিতে নেতৃত্ব দানকারী দেশ (তথ্যসূত্র: এ্যাপারেন্ট কনজাম্পশন, ইউরোস্টেট, ২০১৫)

 

বিশদ ব্যাখ্যা এবং সুযোগ

  • সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বড় ভোক্তা দেশের (জার্মানি ও নেদারল্যান্ড) কনসাম্পশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বড় পতন ছিলো দক্ষিন ইউরোপে, বিশেষ করে গ্রিস ও স্পেন। ২০১৩ সালে পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশেও পোশাকের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ হারে বেড়েছে, বিশেষ করে এসটোনিয়া এবং লাটভিয়া।
  • এছাড়াও, গ্লোবাল মার্কেটে বিশাল সুযোগ খুজে পাওয়া যাবে। উদীয়মান মার্কেট ক্ষিপ্রবেগে ক্রমবর্ধিত হচ্ছে। যেমন, মেয়েদের ব্যবহারোপযোগী পন্যের ব্যবহার প্রতি বছরে ৫% হারে বাড়তে থাকবে। পরিপক্ক বাজার থেকে উদীয়মান বাজারে এর চাহিদা বেশি।

টিপস

  • যদিও আপাত দৃষ্টিতে পশ্চিম ইউরোপে চাহিদা কমে আসছে, তারপরও যারা আমদানি করছে, তারা পন্যের মান ও সৃজনশীলতায় একটা স্যাটাস ধরে চলেছে। এবং পন্যের জন্য ডিম্যান্ডিং অন্য মার্কেট খুজে পেতে একটুও কষ্ট হবে না। এই মার্কেটে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদনকারিগন সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন অথবা বায়ার এর মাধ্যমে।
  • আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মার্কেটও কৌতুহলোদ্দীপক সুযোগ করে দিচ্ছে।

Comments

comments

Leave a Reply