বিষাক্ত লোক যুক্তিকে তুচ্ছ করে। উদাসীনতার কারনে অনেকেই তাদের ক্ষতিকর প্রভাবটা বোধ করতে পারে না। অনেকে আছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও প্রভাব খাটিয়ে চলার মাঝে পরিতৃপ্তি খুজে পায়। যদিও ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সাথে মানিয়ে চলার দক্ষতা অর্জন করা একটি বড় গুন, তারপরও বিষাক্ত মানুষ আপনার উন্নতিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। তারা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করে এবং বিগ্রহ বাধায়। হানস এফ হ্যানসেন বলেছেন, পিপল ইনসপায়ার ইউ অর দে ড্রেইন ইউপিক দ্যাম ওয়াইজলি।

এমনও বলা হয়ে থাকে যে, আপনি হলেন আপনার আশপাশের পাচ ব্যক্তির প্রভাবের ফসল যাদের সাথে আপনি সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করে থাকেন। পাচজনের মধ্যে যদি একজনও বিষাক্ত ব্যক্তি থেকে থাকে, খুব শীঘ্রই আপনি বুঝতে পারবেন সে আপনাকে কতোটা পিছিয়ে দিয়েছে।

আপনি নিজেকে তাদের থেকে দুরে রাখার কথা আশাও করতে পারবেন না যতক্ষন না তারা কারা সেটা নির্ধারন করতে পারেন। কৌশলটি হলো যারা বিরক্তিকর তাদেরকে আলাদা করে ফেলুন। তাদের থেকে সর্বসাকুল্যে দুরে থাকুন, যেন আপনি আবার তার মতো না হয়ে যান। নিচে কতিপয় বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো যেগুলো টক্সিক বা বিষাক্ত ব্যক্তিরা অনুসরন করে থাকে।

একপেশে বা পক্ষপাতী আচরন করে

সম্পর্ক হয় পারস্পরিক সুবিধাজনক। প্রাকৃতিক আদান প্রদান। কর্মক্ষেত্রে, আপনার অধিনস্থ যে আপনার নিকট রিপোর্ট করে, তার উচিত আপনার প্রদত্ত কাজটি সম্পাদন করে দেওয়া, অপর দিকে  আপনার উচিত তাকে আরও ভালো কিছু শিখিয়ে দেওয়া। আবার, আপনি যার কাছে রিপোর্ট করেন, তার উচিত আপনাকে ভালো কিছু শেখানো এবং আপনার উচিত তার কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়া। সম্পর্ক বিষাক্ত হয় তখনই, যখন কেউ শুধু নিতে চায় অথবা অনুপাতহীন আদান প্রদানে আগ্রহী হয়।

এক্ষেত্রে আপনাকে যেটি করতে হবে তা হলো দেওয়া বন্ধ করে দিন। দুর্ভাগ্যক্রমে, তা সবসময় হয়ে উঠে না।  তখন সম্পর্ক গতিশীল ও কার্যকর করার নিমিত্তে অন্য কোন পক্ষের সাথে মুক্ত আলোচনা করুন।

পরোক্ষ আক্রমণাত্মক হয়

কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের লোক একাধিক রূপ ধারন করে, সামনে শীতল সম্পর্ক আর অন্য দিকে আপনার বসকে সিসি রেখে ইমেইল পাঠায়। পরোক্ষ আক্রমণাত্মক মনোভাব সম্পন্ন লোক কাজের গতি কমিয়ে দেয়। যখনই বুঝতে পারবেন যে, আপনার প্রতি কারও প্যাসিভ এ্যাগ্রেশন আছে তখনই সতর্কাবস্থান নিন। যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলতে হবে মাইন্ড গেম। আর যেহেতু ব্যাপারটা একটু বেশি সংবেদনশীল এবং বিবাদ এড়িয়ে চলার জন্য, তার সাথে যে কোন ডিল করতে গেলে সাবধানতার সাথে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ সম্পাদন করুন।

তাদের মাঝে ক্ষমাশীলতা বিশ্বাসের অভাব

এটা অনিবার্য্য যে আপনি কাজে ভুল করতেই পারেন। কেউ কেউ অন্যের ভুলকে এতো বেশি প্রচার করে বেড়ায় যেন সে ভুল করেই না। তারা সবসময় অসন্তোষ থাকে এবং প্রতিনিয়ত ভয়ে থাকে যে কেউ হয়তো এভাবে তারও সর্বনাশ করতে চলেছে। এ বিষয়ে যদি সচেতন না হোন, তাহলে ক্যারিয়ার উন্নতিতে কন্ঠরোধ করার মতো অবস্থা হবে। সব চেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার হলো, একটি ছোট ভুল শত কাজের বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয় আবার একটা ট্রাস্ট পয়েন্ট তৈরি করতে শত শত পারফেক্ট কাজ সম্পাদন করতে হয়। বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য কাজের খুব গভীরে মনোযোগ দিতে হয় এবং ধৈর্য্য ধারন করে একটু বেশি খাটুনি উপহার দিতে হয়। মনে রাখা দরকার, রোম একদিনে তৈরি হয়ে যায় নি।

মিথ্যার উপর সম্পর্ক গড়ে

কিছু ব্যক্তিকে উপরে উপরে খুব ভালো দেখায় যে, কোনটা ফ্যাক্ট আর কোনটা ফিকশন সেটাই বোঝে না। যারা সরাসরি কোন উত্তর না দেয় তারা বিশ্বাসের উপযুক্ত না। সর্বোপরি যাদের মাঝে মিথ্যার প্রবণতা রয়েছে, তাদের উপর কিভাবে নির্ভর করবেন? সম্পর্ক থেকে বিশ্বাস উৎপাটন হয়ে গেলে সম্পর্কের আর কিছুই বাকি থাকে না। মিথ্যার উপর সম্পর্ক বানানো বালি দিয়ে ঘর বানানোরই শামিল। এই মর্মে আপনি যা করবেন, শুধু আপনার কী ক্ষতি হলো তা হিসাব করুন আর সামনে বাড়ুন।

উৎপাতকারী থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন কিভাবে

তারা আপনার বুদ্ধিবিকৃত করে দিতে পারে কারন তাদের ব্যবহার অযৌক্তিক। এ ব্যাপারে কোন ভুল করা যাবে না- তাদের আচরন সম সময় ন্যায়সঙ্গত কারণের বিপক্ষে যায়। সুতরাং, প্রতিউত্তর দিতে যাবেন কেন আর নিজেকে বিশৃঙ্খলায় জড়াবেন্ই বা কেন?

আবেগ ইমোশন নিয়ন্ত্রন রাখার ক্ষমতা এবং চাপে থেকে শান্ত থাকার সাথে পারফরমেন্স এর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ট্যালেন্টস্মার্ট গবেষনায় বেড়িয়ে আসে যে, টপ পারফর্মারদের মধ্যে ৯০ শতাংশই চাপে থেকে ইমোশনকে নিয়ন্ত্রন করার দক্ষতা রাখে এবং শান্ত থাকে।

উত্তম গুনাবলির মধ্যে একটি হলো উপদ্রবকারী চিহ্নিত করা এবং উপসাগরে ফেলে দেয়। তাদের সৃষ্ট খেলায় তাদেরকেই হাড়ানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে দিন। তাদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখুন এবং এমন ভাবে মানিয়ে চলুন যেন সাইন্স প্রজেক্টে কাজ করছেন। ইমোশনাল ব্যাপারে প্রতিউত্তর দেয়া অনাবশ্যক- শুধুমাত্র প্রফেশনাল ফ্যাক্ট। ইমোশনাল দুরত্ব বজায় রাখতে হলে সচেতনতা অত্যাবশ্যক। কী ঘটছে তা না বুঝতে পারলে, আপনার বাটনে অন্যের চাপ নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। কখনও কখনও এমন সময় আসবে যখন গ্রুপ পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই, ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।

তবে, একবার তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারলে, দেখবেন তাদের আচরণ আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারছেন এবং সহজেই বুঝতে পারছেন। এটি আপনাকে যৌক্তিক চিন্তা করতে প্রস্তুত করবে যে, কখন কোথায় শান্ত থাকতে হবে আর কখন থাকতে হবে না। আপনার সীমানা গাড়তে পারেন, কিন্তু তা হতে হবে খুব সতর্কতার সহিত। যদি তাদের আচরন আপনাকে স্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করতে থাকে এবং আপনিও গ্রহন করে নেন, তাহলে আপনাকে প্রায়ই কঠিন বিতন্ডায় জড়াতে হতে পারে। কিন্তু যদি বাওন্ডারি থাকে, তাহলে কখন কোথায় কিভাবে এই বিষাক্ত ব্যক্তি থেকে বিরত রেখে চলতে পারবেন তার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকবে। নিজের বন্দুক তাক করে রাখুন আর সীমানা নির্মান করে রাখুন। সর্বোপরি বলা যায়, হয়তো অন্যের বিষাক্ততা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না, কিন্তু তাদের প্রতি সাড়া দেয়া না দেয়াটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

 

Comments

comments

Leave a Reply