ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তা এবং মার্কেটার এর জন্য অতীব প্রয়োজনীয় দক্ষতা

৯ টি দক্ষতা রয়েছে যা একজন উদ্যোক্তার মাঝে উপস্থিতি উন্নত মানের ব্র্যান্ড দাড় করাতে অবদান রাখবে। আমাদেরকে দক্ষ করে তোলার পর্যাপ্ত আইডিয়া নিয়ে ইন্টারনেট সমৃদ্ধি অর্জন করেছে যেখান থেকে যে কোন প্রশিক্ষণ নেয়া যায়। কিছুদিন আগে আমেরিকায় একটি ভার্চুওয়াল মেনটরশিপ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহনকারীরা হলেন, ৪০ বছরের নিম্নে যাদের বয়স এবং বার্ষিক আয় ১ মিলিয়নের বেশি এমন উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠাতা, উপ-প্রতিষ্ঠাতা। তাদের মতামত নিয়ে উপরোল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছে।

১. মনোবিজ্ঞানের মূলনীতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা: অধিকাংশ উদ্যোক্তা মানোবিজ্ঞানি নন, কিন্তু কাস্টমারের মনেযোগ আকর্ষণ, এ্যাঙ্গেজ, ব্র্যান্ডিং ও ক্রয়ে অনুপ্রাণিত করতে এই জ্ঞান প্রয়োগ করে থাকেন। মনোবিজ্ঞানে আপনার কোন উচ্চ ডিগ্রি দরকার নেই, কিন্তু মানুষকে প্রেষণা দিতে গেলে মৌলিক জ্ঞান প্রয়োজন। বই-প্রবন্ধ পড়া, ভিডিও দেখা এবং এই বিষয়ের উপর মৌলিক ক্লাস নেয়া ব্র্যান্ডিং কৌশলকে উন্নত করবে। যেমন, আপনি যেই ক্যাটাগরির কাস্টমার নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের সামাজিক চাহিদা, সংঘবদ্ধ আচরন এবং প্রেষনা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। আধুনিক যুগে এই কাজটি এসে পড়েছে, কপিরাইটার ও বিজ্ঞাপন সংস্থার উপর। উত্তম কপিরাইটারকে মনোবিজ্ঞান সম্পর্কিত  জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

২. পাবলিক স্পিকিং দক্ষতা: আপনি আমার সাথে একমত হবেন যে, মার্কেটিং এ প্রেযেন্টেশান স্কিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জনসাধারণের সামনে কথা বলার দুর্বলতা অনেক আত্নবিশ্বাসী পেশাজীবীকেও স্নায়বিক চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু পাবলিক স্পিকিং এর চাবিকাঠি জানা থাকলে, শুধু মার্কেটিং নয় জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে কাজে আসবে। ব্র্যান্ড দাড় করানো মানে হলো, কাস্টমারের সাথে ইমোশনাল সম্পর্ক গড়ে তোলা। উদ্যোক্তার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী সম্পর্ক স্থাপনে যোগাযোগ খু্বই গুরুত্বপূর্ণ এক দক্ষতা যা অর্জন না করলেই নয়। স্পষ্ট ও পরিমিত যোগাযোগ টার্গেট অডিয়েন্সের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধুমাত্র প্রোডাক্ট কোওয়ালিটি সুপেরিয়র হওয়াই যথেষ্ট নয়, অডিয়েন্সরা আপনাকে মনে রাখবে যেভাবে আপনাকে ও আপনার ব্যবসায়কে উপস্থাপন করবেন। কাটিং এ্যাজ টেকনোলজি বাজারজাতকরণে শ্রেষ্ঠ আইডেন্টিটি হিসেবে এ্যাপল স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং প্রেযেন্টিংয়ে স্টিভ জবস ছিলেন একজন সুপেরিয়র রোল মডেল। আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে যদি আপনি এ্যাপল না হয়ে থাকেন, তাহলে বিশ্লষণ করুন আপনার উপস্থাপনা কতোটা উন্নত করা উচিত।

৩. কারিশমা: অনেকের ধারণা, কারিশমা শেখা যায় না, কিন্তু, কারিশমেটিক নেতৃত্বের অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় যে, শিক্ষা অর্জন করা যায়। অর্গানাইযেশনাল বিহেভিয়ার এর প্রফেসর জন এ্যানটনাকিস এই বিষয়ে একজন নেতা এবং উদ্যোক্তা তার কাজের সাথে পরিচিত হতে পারা এক প্রকার উপহার পাওয়ার মতো।

৪. কন্টেন্ট সৃষ্টি করা: সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় আপনার পণ্য ও সেবার ম্যাসেজ উপস্থাপনের নিখুত টুল হলো কন্টেন্ট মার্কেটিং। হতে পারে টেক্সট, হতে পারে কোন ছবি, হতে পারে জিআইএফ ছবি, হতে পারে কোন ভিডিও- প্রত্যেক ব্র্যান্ড এর ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল। উন্নত মানের কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য, অনেক অতিরিক্ত সময় ব্যয় করি। অনলাইন অফলাইন দুইটাতেই ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং। কিভাবে কন্টেন্ট তৈরি করে পণ্যের মার্কেটিং করতে হয় তা জানার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ড এ ডিজিটাল মূল্য যোগ করতে পারেন। আগে কখনো নাম শোনেননি এমন কোম্পানির পণ্য কেনায় কাস্টমাররা অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা সাধারনত বিশ্বস্ত ও পরিচিত ব্র্যান্ড থেকে পণ্য ক্রয় করতে অগ্রাধিকার দেন। তো  কন্টেন্ট মার্কেটিং হলো এমন একটি অস্ত্র যার মাধ্যমে ব্র্যান্ড সিগন্যাচার স্টাইল সৃষ্টি করবে এবং কাস্টমার থেকে স্বীকৃতি লাভ করবে।

৫. এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইযেশন: উদ্যোক্তা কে এসইও এর মূল্য ও কার্য্যকারিতা অবলোকন করতে হবে। অনেকেই মনে করে যে, তারা এসইও জানেন, কিন্তু বাস্তবে অনেক কিছু শেখা বাকি রয়ে গেছে। এটিও অনলাইনে শেখা যাবে এবং বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে।

৬. কপিরাইটিং: টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে স্পষ্ট ও কার্য্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা, আবেগ সংযুক্ত করা এবং গল্প বলা ব্র্যান্ডিং এ বড় ব্যবধান সৃষ্টি করে। আপনি কী বিক্রি করছেন কোন কোম্পানিকে বড় করতে চাচ্ছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যদি আপনার অফারিংস সম্পর্কে আঁটসাঁট করে বলতে না পারেন তাহলে মূল্যহীন হয়ে যাবে। মানুষের রুচি, জীবন-ধারন, আগ্রহ ও কার্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে যাবেন।

৭. বেসিক কোডিং: যদিও আপনার কোড করে দেওয়ার মতো ব্যক্তি নিযুক্ত আছে, তারপরও আপনার কোডিং শিখলে কোন ক্ষত সৃষ্টি হবে না। কোডিং এর মৌলিক বিষয়গুলো জানা থাকলে ওয়েবসাইট ও এ্যাপলিকেশনের খুঁত ধরতে পারবেন এবং সমাধানে অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারবেন। অনলাইনে অনেক কোর্স আছে যেগুলো রপ্ত করে কার্য্যকরি জ্ঞান অর্জন সম্ভব।

৮. অন্য ব্র্যান্ড নিয়ে গবেষণা করুন: নিজের ব্র্যান্ড দাড় করানোর পূর্বে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং কৌশল নিয়ে গবেষনা করুন। আপনার পন্য বা সেবা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্র্যান্ডগুলোর সোস্যাল মিডিয়া এ্যাকাউন্টগুলো চেক করুন। তাদের ওয়েবসাইট ও ব্লগে সময় ব্যয় করুন। পরিলক্ষ করুন কিভাবে তাদের কৌশল প্রয়োগ করছে, কিভাবে ফলাফল বয়ে আনছে। সেই সাথে বের করে আনুন তাদের কৌশলকে আপনি কিভাবে কাজে লাগাতে পারেন।

৯. গ্রাফিকস ডিজাইন শিখুন: অবিরত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্র্যান্ড কৌশল অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম পন্থা হলো লোগো, ফন্ট, কালার ও ট্যাগলাইন সৃষ্টি করে ভিশনকে একটি টিমওয়ার্কের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া। আপনি কি চান, এবং কিভাবে তার বাস্তব রুপ দিতে হবে তা অর্জনে গ্রাফিক্স ডিজাইন দক্ষতা আপনাকে উত্তম আইডিয়া দিবে। এবং তা করতে পারবেন অন্য কারও উপর নির্ভরশীল না হয়েই।

আপনার ধারণামতে আর কী কী দক্ষতা রয়েছে যা একজন উদ্যোক্তা কে অর্জন করতে হবে? নিচে কমেন্টে যুক্ত করুন।

তথ্যসূত্র: গ্রৌথগুরু, মার্কেটিং উইকফাস্ট কোম্পানিস্পিকিং সেভ্যি

Spread the love

Comments

comments

Leave a Reply